আল কোরআনে আল্লাহ সুবহানাল্লাহ শুধু মুমিনদের সম্মুদন করে ডাকেন নি বরং তিনি হে মানুষ বলে অনেকবার সকল মানব জাতীকেও সম্মুদন করে ডেকেছেন। আর তিনি চিন্তা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আমরা অতি ব্যস্ত মানুষ। বস্তুত আমরা চিন্তা করি না, যা কিছু নিয়ে চিন্তা করার কথা। আমাদের চিন্তা করার সময় কোথায়? আচ্ছা আল্লাহ মানুষ জাতীকে কি নিয়ে চিন্তা করতে বললেন?
যেদিন আকাশ বর্ণহীন হয়ে যাবে। তারকারা ঝরে ঝরে পড়বে যেমন করে মালা ছিড়ে গেলে এর বলগুলো ঝড়ে পড়ে। আল্লাহ সেই সময়ের কথা চিন্তা করতে বলছেন? আচ্ছা কেন আমরা সেসময়ের কথা চিন্তা করব? কি হবে আর সে সময়?
সেসময় সমুদ্র ফুলে ফেপে উঠবে। মাটির ভেতরে যা কিছু ছিল তা উপরে উঠে আসবে। তারপর যখন কবরগুলোর ঢাকনা খুলে দেয়া হবে, সেটাই হবে সব থেকে চিন্তার কথা। মানুষ চারদিকে তাকিয়ে হতভম্ব হয়ে পড়বে। কি হয়েছে তা বলতে হবে না। মানুষ বুঝতে পারবে এটাই সেই অঙ্গিকারের দিন যা বলা হয়েছিল কিতাবসমূহে। জানেন তখন মানুষ কি চিন্তা করবে? তখন মানুষ চিন্তা করবে যা তারা পেছনে ফেলে এসেছে। যা তারা পৃথিবী থেকে নিয়ে আসতে পারত। আল্লাহ কোরআনে বলছেন, সে দিন তারা বুঝতে পারবে কি প্রাধান্য দেয়া উচিত ছিল, আর কি থেকে দূরে থাকা উচিত ছিল। আসলে আমরা জানি যে এত ব্যস্ততার মাঝেও কোন কাজকে আমাদের গুরুত্ব দেয়া উচিত। কিন্তু আমরা সেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে দুনিয়ার পেছনেই ছুটে চলেছি। সেদিনের অবস্থা কতই না ভয়াবহ। আমরা সেদিন বুঝতে পারব কোনটা করা উচিত ছিল সে সময়।
সেদিন বুঝে কি কোন কাজে আসবে? কোন কাজে আসবে না। আমরা শুধু আফসোস করতে থাকব। আমরা স্ত্রী, সন্তান, বন্ধু, বান্ধব, আড্ডা, মাস্তী, সম্পদ আহরনসহ পাপ আর নিষিদ্ধ কাজেই সময় নষ্ট করছি। কিন্তু কিছুই করার নেই। আর তো পৃথিবীতে ফিরে যাওয়ার কোন সিস্টেম নেই। যাহান্নামীকে বলা হবে, কি এমন যা দুনিয়াতে তাকে তার রবের স্মরণ থেকে দূরে রেখেছিল। তখন তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। আর বার বার আরও একটি সুযোগ চাইবে। কিন্তু না, তারা আর সে সুযোগ পাবে না। দুনিয়াতে যা করেছে তার প্রতিফল পাওয়ার সময় এটা। সে দিন রবে অঙ্গিকার প্রতিফলিত হবে।
কোনভাবে যদি সে সময়টা স্কেপ করা যেত। পাপীরা এমনটাই ভাবতে থাকবে। কিন্তু তাদেরতো লোকানোর কোন জায়গা নেই। কারণ সূরা মূলকে আল্লাহ জানাচ্ছেন, আকাশ ও পৃথিবীর একক সার্বভৌমত্ব শুধু আল্লাহর। তাই আর কোন রব নেই যা তাকে সেদিন বাঁচাতে পারবে।
আল্লাহ আমাদের জানাচ্ছেন, সেদিন আমরা পৃথিবীতে ফিরে আসতে চাইব যেন কিছু অর্জন করে নিয়ে যেতে পারি। কিন্তু সেদিন যখন চলে আসবে তখন আর সেটা সম্ভব হবে না।
হে মানুষ! তোমাদের কি হল। যে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করছ না? আমরা তো সেদিনের কথা জানি। সেদিন কি হবে আমাদের জানিয়ে দেওয়ার পরও আমরা বিভ্রান্তে রয়েছি।
যখন কেউ এমন কিছু করে যা সে করা কল্পনাও করা যায় না তখন আমরা তাকে ধরে ঝাকি দেই আর বলি, হুস হারিয়ে ফেলেছ? বাস্তবে ফিরে আস। বস্তুত স্বাভাবিক কোন মানুষে যদি অস্বাভাবিক কোন কাজ করে বসে তখন আমরা ধরে নেই, সে যা করছে তার বোধ শক্তি হারিয়ে এমন করছে। সেযেন বাস্তবে ফিরে আসে সেজন্য আমরা এমনটা করি। অনেক সময় আমরা মুভি নাটকে দেখে থাকি, কেউ মোহগ্রস্ত বা কোন অদৃশ্য জাদুতে মোহগ্রস্ত হয়ে নিজ সন্তানকে বা আপনজনকে ক্ষতি করতে যায়। কেউ বুঝতে পারলে তাকে জোরে ঝাকি দিয়ে বাস্তবে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করে। তখন সে বলে, হে অমুক! তোমার কি হয়েছে?
আল্লাহ সেইম কাজটি করছেন। আমরা শয়তানের কুমন্ত্রণার জাদুতে দুনিয়াকে বড় করে দেখছি। আর আল্লাহ আমাদের বিবেক কে ঝাকি দিচ্ছেন? হে মানুষ! তোমার কি হল? কেন তুমি উপদেশ শুনছ না? তুমি তো জান সেদিন কি অবস্থা হবে। তুমি তো এখনো মরে যাও নি। কিছু সময় এখনো আছে। কেন কাজে লাগাচ্ছ না? সেদিন তো বলবে, দুনিয়াতে ফিরিয়ে দেয়া হোক। কিন্তু তুমি এখন তো দুনিয়াতেই আছ। তাহলে কি হল তোমার। তোমার কিসের মোহগ্রস্ত? তোমার রবের দিকে ফিরে আস।
আল্লাহ সুবহানাকা, আমাদের বিচারদিবসের অবস্থা জানাচ্ছেন আর আমাদের বিবেক কে ঝাকি দিয়ে বলছেন, হে মানুষ! কি হল তোমাদের? তোমরা জানও সামনে কি অপেক্ষা করছে। তাহলে এখনো সময় সুযোগ পেয়েও কেন রবের থেকে দূরে আছ?
আল্লাহ আমাদের বুঝতে ও চিন্তা করতে তাওফিক দাও। আমীন।


0 Comments